মোহাম্মদ জাবেদ, কানাডাঃ
এক যুগ পর দলীয় নেতা নির্বাচনে ব্যস্ত সময় পার করছে কানাডার লিবারেল পার্টি| চার লক্ষ রেজিষ্টার্ড লিবারেল সদস্য ব্যস্ত আছেন চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থেকে যোগ্যতম নেতা নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বিচার বিশ্লেষণে| ২০১৩ সালে লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব নিয়েই বাজিমাত করে ফেলেছিলেন জাস্টিন ট্রুডো| খাদের কিনারা থেকে দলকে শুধু উদ্ধারই করেননি, তরুণদের উজ্জীবিত করে অবসান ঘটান ১০ বছরের একটানা কনজারভেটিভ শাসনের| তারই ধারাবাহিকতায় চলে তাঁর নেতৃত্বাধীন সাড়ে নয় বছর লিবারেল শাসন| কিন্তু মানুষের আস্থার প্রতি সুবিচার করতে পারেননি ট্রুডো| তার অনেকগুলি অমার্জনীয় ভুলে তরুনরা মুখ ফিরিয়ে নেয় লিবারেলদের থেকে| ফলে জনসমর্থনে একেবারে খাদের কিনারায় চলে যায় লিবারেল পার্টি| স্বাভাবিক কারণে দলীয় সতীর্থদের সমর্থন হারান ট্রুডো| ছেড়ে দিতে হয় দলীয় নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীত্ব দুটোই|
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বানিজ্য যুদ্ধে, কানাডার সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার লড়াইয়ে লিবারেল প্রার্থীদের অবস্থান এবং এতে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর সাম্প্রতিক ভূমিকা, তার ঐতিহাসিক ভাষণ লিবারেল পার্টির পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে| ফলে কানাডার রাজনৈতিক ময়দানে এ মুহূর্তে সবচেয়ে সুবিধাভোগী দল লিবারেল পার্টি|
এদিকে জমে উঠেছে লিবারেল পার্টির দলীয় লিডারশিপ নির্বাচন| সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক অনলাইন জরিপে দেখা গেছে লিবারেল পার্টির লিডারশিপ দৌড়ে এগিয়ে আছেন হাই প্রফাইল প্রার্থী মার্ক কার্নি| ৭ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লিবারেল পার্টির ২,৪০০ জন সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে অর্থনীতিবিদ মার্ক কার্নি, প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী ফ্রিল্যান্ড, প্রাক্তন হাউস লিডার কারিনা গোল্ড এবং মন্ট্রিয়লের ব্যবসায়ী ফ্রাঙ্ক বেলিস এর প্রতি সমর্থন আছে যথাক্রমে ৪৩, ৩১, ১৬ এবং ৩ শতাংশ লিবারেল সদস্যের| সাত শতাংশ সদস্য অবশ্য এখনও সিদ্ধান্তহীন। গত ২৪ এবং ২৫শে ফেব্রয়ারীতে অনুষ্টিত দুটি টিভি বিতর্কে প্রাথীদের পারফর্মেন্স জনসমর্থনে কিছুটা প্রভাব ফেলবে| দুটিতেই ভালো করেছেন পিছিয়ে থাকা দুই প্রার্থী| তবে এতে হিসেব নিকেশে খুব একটা পরিবর্তন হওয়ার কথা না, কারণ র্যাঙ্কড্ ব্যালট পদ্ধতিতে অনুষ্টিতব্য নির্বাচনে মার্ক কার্নি আছেন অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায়| তাঁর উপর আছে বেশীরভাগ উপরের লেভেলের সদস্যদের এনডোর্সমেন্ট যাদের ভোটের ওজন সাধারণ সদস্যের ভোটের চেয়ে বেশী| তাই কার্নির বিজয় অনেকটা নিশ্চিত| ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে যদিও বিজয়ীর নাম শোনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৯ মার্চ পর্যন্ত |
ট্রুডোর পদত্যাগের ঘোষণার আগে কনজারভেটিভদের প্রতি ৪৬% সমর্থনের বিপরীতে লিবারেলদের সমর্থন ২০% এর নীচে নেমে গিয়েছিল| তাঁর নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা পর থেকে লিবারেল পার্টির সমর্থন বেড়ে চলেছে| ট্রুডো সরে যাওয়াতে লিবারেলদের উপর ভরসা রাখতে পারছেন অনেকেই| একসময় মনে হচ্ছিল কনজারভেটিভদের ক্ষমতায় আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র| কিন্তু এখন মনে হচ্ছে উল্টো চাপে আছে তারা| লিবারেলদের বিরুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের| গত ২৪ শে ফেব্রুয়ারী প্রকাশিত Ipsos জরীপে দেখা গেছে, লিবারেল, কনজারভেটিভ এবং NDP’ র উপর মানুষের সমর্থন যথাক্রমে ৩৮%, ৩৬% এবং ১২%| স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে লিবারেলদের এই পুনর্জাগরণে একেবারে বসে যাচ্ছে NDP এবং পার্টি কুইবেকোয়া|
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত অযাচিত হুমকি ও চাপ মোকাবেলায় কনজারভেটিভের চেয়ে লিবারেল পার্টিকেই অধিকতর কার্যকর মনে করছেন কানাডিয়ানরা| এর পিছনে অবদান আছে ট্রুডোরও| তিনি চাইলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারতেন, তা না করে তিনি ক্ষমতা বাস্তবে সোপর্দ করেছেন তার দলের হাতেই| তার ফলে লিবারেল পার্টি এখনো টিকে আছে আগামী সময়ের টালমাটাল দিনগুলি মোকাবেলার লড়াইয়ে|
Leave a Reply